লিপন আর আমার একটি স্মরণীয় দিন!

কয়েকদিন হলো ব্লগ লেখা শুরু করছি! আজকে হঠাৎ ছোটবেলার ঘটনা মনে পরলো! তো এসব না বলে সোজাসুজি কাহিনী তে চলে যাই

দিন বা তারিখ টা ঠিক মনে নেই, তখন আমি ক্লাস ৪ এ, আমার বয়স ৯-১০ হবে আরকি। তো কাহিনী শুরু করার আগে লিপনের পরিচয় টা দেই আগে।

লিপন হচ্ছে আমার ফুফাতো ভাই। আমার ছোট বেলার সব থেকে কাছের ও ঘনিষ্ঠ! আমাকে ছাড়া যেমন ও বুঝতো না, ঠিক তেমনি আমিও!

তো যাই হোক, সেইদিন আমি স্কুলের ছুটিতে ফুফুর বাড়িতে ঘুরতে গেছিলাম, কারন ছুটি পেলেই ফুফু আর নানি বাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়া তেমনটা হতো না!

তখন আমার হাতে নোকিয়া n70 মডেলের ফোনটি ছিল, ফোনের মেমোরি কার্ড টা নষ্ট হইছিল, তো ফোনে শুধু একটা গান ছিল, গানের নাম “মাধবী লতা”, তো সেইদিন আমরা দুইজনে প্লান করলাম বাজারে ঘুরে আসার, বাজার প্রায় ২-৩ কিমি হবে ফুফুর বাড়ি থেকে। যেহেতু আমরা ভ্রমন পিপাসু আর এডভ্যাঞ্চার প্রিয় ছিলাম, সেজন্য আমরা সব সময় নতুন কিছু করার চিন্তা নিয়েই থাকতাম😀। যাইহোক আমার হাতে তখন ২০৳ ছিল, ওই বয়সে এটাই অনেক😁।

তো বাজারে গিয়েই মাথায় ভূত চাপলো যে পাশেই তো নানির বাড়ি, তো আমি লিপন কে বললাম “চল যাই “।

কিন্তু নানির বাড়ি বাজার থেকে আরো প্রায় ৭-৮কিমি হবে। কিন্তু ২০ টাকায় ভ্যান/ কোন কিছুই পাওয়া যাবে না। তো উপায় একটাই, যে পায়ে হেটেই যেতে হবে। মুখে বলা যতটা সহজ, তা করে দেখানো আসলেই কঠিন। কারন ওই ছোট বয়সে এতোটা পথ হেটে যাওয়া কিছুটা অসম্ভব!

কিন্তু আমরা ছেড়ে দেওয়ার পাত্র না,কিন্তু তৎখনাত মনে পড়লো ফুফুর বাড়িতে জানলে একটা ভেজাল হবে। তাই লিপন যেতে ইতস্তত বোধ করতেছিল। আমি ওকে অনেক বুঝাচ্ছি, যে দেখ আজকের দিনটা যদি আমরা যেতে পারি তাহলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মনে থাকবে। আসলে আমি যে ওই বয়সে এসব ভাবছি তা কল্পনারো বাইরে। যাই হোক আল্লাহ আমাকে এইরকম কল্পনা শক্তি দিয়েছেন তার জন্য আমি অনেক কৃতজ্ঞ।

তো তখন ১টা বাজে, আমি নানা বাড়ি যাওয়ার শর্টকাট জানতাম না, কারন এর আগে আব্বু আম্মুর সাথে অনেক ভেজাল ওয়ালা রাস্তা দিয়ে যাইতাম। আচ্ছা তার আগে বলে রাখি, আমার নানা বাড়ি যাওয়ার অনেক রাস্তা আছে। তো আমার যেই রাস্তা সহজে মনে আসছে ওই রাস্তা দিয়েই প্লান করলাম যাবো। কিন্তু সেপথ মনে থাকলেও অনেক বড় পথ ছিল😐😐, তারউপর সেদিন তুখর রোদ! হাতে ২০টাকা।

যাই হোক তারপর দুজনেই ওইভাবেই হাটা শুরু করে দিলাম। রাস্তায় হাটার সময় একটা নতুন জিনিস ফিল করলাম যে, আগে কতই না এই রাস্তা দিয়ে নানার বাড়ি গেইছি, কিন্তু এভাবে রাস্তার যেটা ইচ্ছে সেটা করার মতো সুযোগ পেতাম না। এবার এই সুযোগ টা পেলাম। রাস্তার পাশের গাছ গুলা, পানির ক্যানেল, তারপর কিছু নজর কেড়ে নেওয়া বাড়ি। সব কিছু কাছ থেকে দেখছি স্পর্শ করছি, যা ইচ্ছে তাই। বেপার টা তখন আমার কাছে অনেক কিছুই।

তো এভাবে হাটতে হাটতে যখন ক্লান্তি আসতো তখন আসে পাশের দোকান থেকে কিছু খেয়ে নিতাম। যেখানেই থামতাম সেখানেই ৩-৪ টাকার কিছু নিয়ে ভাগাভাগি করে খাইতাম৷ ভাগাভাগি করে খাওয়ার মজাটা আরো সেই😃। আর হ্যা ভূলে গেছিলাম, ফোনে লুপে শুধু একটা গান চলতো ‘ মাধবী লতা আমি😂” আর আমরা ছোট ছোট পায়ে একের পর এক গ্রাম পাড়ি দিচ্ছিলাম।

এভাবে প্রচন্ড রোদে অনেক কাহিনী করে প্রায় সন্ধ্যার দিকে নানির বাড়ির উঠানে চলে আসলাম। অনুভূতি টা প্রকাশ করার মতো না। কারন এই প্রথম নানার বাড়ি পায়ে হেটে আসলাম😃।

এই আনন্দ বেশি ক্ষন থাকলো না😐, কারন নানা জিজ্ঞেস করলো কিসে আসলাম আমরা😂😂, তখন ২ জনেই আমতা আমতা করে বললাম, ” নানা ভ্যানে আসছি, সামনের বাজারে ভ্যান আমাদের নামাই দিয়ে গেছে!”

নানা তখন আর কিছু বলল না😁😁। তখন খাওয়া করে নানার বাড়ির চিল করছি। আর পরের কাহিনী তো সেই, আব্দুল্লাহ (আমার মামাতো ভাই), লিপন আর আমি পরের কয়েকটা দিন সেই মজা করছি! কয়েক দিন পর নানা গাড়িতে করে বাসায় রেখে আসছে,কিন্তু কাহিনী হচ্ছে এইদিকে ফুফা অনেক রেগে ছিলো😂😂। কারন আমরা না জানিয়ে চলে গেছি।

তো এভাবেই সেই ছুটি শেষ। আর জীবনে একটা স্মরণীয় দিন হয়ে গেলো!

এখন শুয়ে শুয়ে সেইসব দিন মনে করতেছি। মনে হচ্ছে সেইদিনের কথা, কত সাদা মাটা, চিন্তাহীন ছিলাম। সময়ের ক্রমে অনেক কিছুই পাল্টে গেছে। নানাও আমাদের ছেড়ে যাওয়ার প্রায় ৩ বছর হচ্ছে। ওনাকে অনেক মিস করি!

আল্লাহ ওনাকে জান্নাত দান করুক!